Monday, November 19, 2018

,

ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সতর্কতা


বর্তমানে গ্রামের প্রায় সকলের কাছেই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট এবং এ টি এম কার্ড রয়েছে। গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত এমন কিছু করে থাকে যেগুলো করা একদমই উচিত নয় এবং এমন কিছু করা উচিত যেগুলো করে না। এর ফলাফল হিসাবে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়। আসুন জেনে নেই কিছু তথ্য, এই তথ্য গুলো ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ থেকে নাও হয়েছে।

অব্যশই এই তথ্য গুলো বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে বন্ধুদের সতর্ক করুণ। এবং আপনার পরিবারের সকল সদস্যের বোঝান।


Banking




  কি করবেন :  

  • সবসময় আপনার পাশবই ও চেক সুরক্ষিত রাখুন।
  • আপনার অ্যাকাউন্টের লেনদেন জানতে এস এম এস অ্যালার্ট সুবিধা নিন।
  • তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে আপনার অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি পেতে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং (আই এন বি) ও মোবাইল ব্যাঙ্কিং সুবিধা নিন।
  • নিয়মিত পাশবুক আপডেশন/ এ টি এম মিনি স্টেটমেন্ট / ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং / মোবাইল ব্যাঙ্কিং মারফৎ আপনার অ্যাকাউন্টে সর্বদা লক্ষ্য রাখুন।
  • নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর এ টি এম পিন ও আই এন বি পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। সেটি লিখে রাখা / কোথাও লাগিয়ে রাখা / স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করার বদলে মনে রাখুন।
  • আপনার এ টি এম/ ডেবিট কার্ড পাওয়া মাত্র তার সাক্ষর প্যানেলে সই করুন।
  • চেক্ / এ টি এম / আই এন বি মরফৎ অর্থপ্রদান করুন ও নগদে লেনদেন এড়িয়ে যান।
  • অচেনা ব্যাক্তির কাছ থেকে বেশি অঙ্কের টাকা নেবার আগে সেটির সাধারণ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য খুঁটিয়ে দেখুন।
  • সন্দেহ জনক লেনদেন দেখলে তৎক্ষণাৎ তা শাখা প্রবন্ধকের কাছে জানান।
  • কোন জরূরি প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের (স্টেট ব্যাঙ্ক) ২৪ ঘন্টার হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০১১২২১১/ ০৮০-২৬৫৯৯৯৯০ তে যোগাযোগ করুন।



  কি করবেন না :  

  • কোনও ব্যক্তিকে আগাম সাক্ষর করা খালি চেক্ ইস্যু করবেন না।
  • অজানা ব্যাক্তি / অজানা সেলসম্যানকে চেক্ ইস্যু করবেন না।
  • চেক লেখার সময় অচেনা ব্যাক্তির পেন ব্যাবহার করবেন না।
  • যে কোনও ব্যক্তির কাছে এ টি এম পিন / আই এন বি পাসওয়ার্ড / ও.টি.পি প্রকাশ করবেন না। এমনকি ফোনে নিজেকে ব্যাঙ্ক আফিসার বা অন্য কিছু বলে পরিচয় দিচ্ছেন, তার কাছেও না। ব্যাঙ্ক এগুলি জানতে চাই না।
  • পুরস্কার জিতে নেওয়া বা লটারি পাওয়া বিষয়ে অজানা নম্বর থেকে এস এম এস পেলে সারা দেবেন না।
  • প্রকাশ্য স্থানে পাশবই/ চেকবই / এ টি এম কার্ড ফেলে রাখবেন না। এমনকি বাড়িতেও না।
  • পাশবই/ ফিক্সড্ ডিপোজিট রসিদ ইত্যাদিতে হাতে লেখা এন্ট্রি গ্রহণ করবেন না।
  • এ টি এম মেশিনের বাইরে কোনও যন্ত্র বা অতিরিক্ত কিছু ঝোলানো আছে কিনা, দেখে নিতে ভুলবেন না। এ টি এম মেশিন ঘেঁসে দাড়ান এবং পিন দেওয়ার সময় আপনার শরীর এবং হাত দিয়ে কিপ্যাড আড়াল করুন।
  • এ টি এম -এ আপনার লেনদেন স্লিপ ফেলে রাখবেন না, ফেলে দেওয়ার আগে কাগজটি ছিঁড়ে ফেলুন।
  • আপনি এ টি এম ব্যবহার করার সময় এ টি এম -এর নির্দিষ্ট জায়গায় কোনও ব্যক্তিকে আসতে দেবেন না।

এ টি এম কার্ড এর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে এই লিঙ্কে - ক্লিক করুন


Tuesday, November 13, 2018

,

বিনাব্যয়ে চক্ষুছানি পরীক্ষা শিবির

বিগত বছরের মতো এই বছর সীতাপুর নবীনমানুয়া মিলন সংঘ আয়োজন করেছে বিনাব্যয়ে চক্ষুছানি পরীক্ষা শিবির। তাই সীতাপুর, নবীনমানুয়া সহ পার্শ্ববর্তী সকল গ্রামবাসীদের জানাই সাদর আমন্ত্রণ। এই শিবির সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হল।

¤বিনাব্যয়ে চক্ষুছানি পরীক্ষা শিবির ¤
পরিচালনায় :- সীতাপুর নবীনমানুয়া মিলন সংঘ। 
তারিখ:- ১লা অগ্রহায়ন ১৪২৫ (ইং ১৮/১১/২০৮)রবিবার , সকাল ৯টা থেকে ১১টা।
স্থান :- সীতাপুর মনসাতলা। 
সহযোগিতায় : চৈতন্যপুর নেত্র নিরাময় নিকেতন। 

শিবিরের নিয়মাবলী নেচে দেওয়া হল-

Eye Care






¤ শিবিরের নিয়মাবলী:
  • শিবিরে ৫০ বছরের বেশি ও ১৫ বছরের নীচে রোগীদের দেখা হবে।
  • শিবিরে অপারেশন যোগ্য বিবেচিত হলে বিনাব্যায়ে চৈতন্যপুরে নিয়ে গিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা আছে। 
  • অপারেশনের ১ মাস পরে চেকআপ-এর ব্যবস্থা আছে।
  • চেকআপ-এর ১৫ দিন পর বিনা খরচে চশমার ব্যবস্থা আছে।
  • শিবিরে ১২ টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে রেজিষ্ট্রেশন কাড নিতে হবে।
  • অন্যান্য রোগীদের জন্য শিবিরে নাহ্যমুল্যে ঔষধ ও চশমা পাওয়া যাবে। 
  • যোগাযোগ :- 9732904636 , অনান্য বিভিন্ন তথ্যের জন্য সীতাপুর নবীনমানুয়া মিলন সংঘে যোগাযোগ করুন।

Tuesday, November 6, 2018

,

শ্যামা পূজোর অনুষ্ঠান সূচী

আলোর উৎসব দীপাবলি। এই দীপাবলিতে সীতাপুর গ্রামবাসী মেতে উঠেন শ্যামা মায়ের পূজোয়।
সীতাপুরের  পূজো গুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পূজো হল মাতৃ সংঘের শ্যামা পূজো। সীতাপুর কালীতলায় এই পূজো হয়ে থাকে। পূজোর দিন গুলো নানান অনুষ্ঠান, ছোটো ছোটো ভাই বোনদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দে ভরে তলে মাতৃ সংঘের সদস্য বৃন্দরা।

 সীতাপুর-নবীনমানুয়া সার্ব্বজনীন শ্রী শ্রী শ্যামা পূজো
পরিচালনায় - মাতৃ সংঘ।
স্থানঃ সীতাপুর কালীতলা,পশ্চিম মেদিনীপুর।


Kali Pujo






:: পূজার সময় নির্ঘণ্ট ও অনুষ্ঠান সূচী ::

১৯শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-০৬/১১/১৮) মঙ্গলবার:-
রাত্রিতে-ঢাক,বাদ্যযন্ত্র এবং আলোকসজ্জা সহকারে মায়ের মঙ্গলঘট স্থাপন ও পূজারম্ভ।


২০শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-০৭/১১/১৮)  বুধবার:-
দুপুরে-মায়ের নিত্যপূজা ও নির্মাল্য।
বিকেলে-  ক্রীড়া প্রোতিযোগিতা।

২১শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-০৮/১১/১৮)  বৃহস্পতিবার:-
দুপুরে-মায়ের নিত্যপূজা ও নির্মাল্য।
সন্ধ্যায়-সন্ধ্যারতি।
রাত্রি ৯টায় - কলিকাতার সুবিখ্যাত বিশ্বরূপ অপেরার কর্তৃক সামাজিক যাত্রাপালা -" সুখের সংসারে শয়তানের বাসা"।

২২শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-০৯/১১/১৮)  শুক্রবার:-
দুপুরে-মায়ের নিত্যপূজা ও নির্মাল্য।
সন্ধ্যায়-সন্ধ্যারতি।
রাত্রি ৮টায় - মহিলা শিল্পীদ্বারা গীতিনাট্যানুষ্ঠান "তাসের দেশ" ও "নৃত্যানুষ্ঠান"।

২৩শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-১০/১১/১৮)  শনিবার:-
দুপুরে-মায়ের নিত্যপূজা খিঁচুড়ি প্রসাদ-বসে খাওয়া(সবার নিমন্ত্রণ)।
রাত্রি ৯টায় - স্টার জলসা শিল্পী কর্ত্তৃক বাপন ড্যান্সট্রুপ ও জি বাংলা সীমারেখা সিরিয়াল খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী- "পলা"।

২৪শে কার্ত্তিক ১৪২৫ ( ইং-১১/১১/১৮)  রবিবার:-
দুপুরে-মায়ের নিত্যপূজা ও সন্ধ্যায়-সন্ধ্যারতি।
রাত্রি ৮ টায়- প্রসাদ বিতরণ ও বাদ্য-বাজনা, বাজি এবং আলোক সজ্জা সহকারে প্রতিমা নিরঞ্জন।

******সকলকে জাানাই শুভ দীপাবলি শুভেচ্ছা******


Monday, October 29, 2018

,

এ টি এম কার্ডের অথবা ডেবিট কার্ডের এই তথ্য গুলো কখনো শেয়ার করবেন না- বিস্তারিত জানুন

এ টি এম কার্ড অথবা ডেবিট কার্ড এখন প্রায় সকলের কাছেই আছে। বর্তমানে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার সবাই বেশি করেন। এমনকি ব্যাঙ্ক এখন ডেবিট কার্ডই ইস্যু করে। এ টি এম কার্ড হল একটি প্লাস্টিকের তৈরি পেমেন্ট কার্ড। যার সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক রয়েছে এবং এই কার্ডটি শুধুমাত্র এ টি এম মেশিনে টাকা তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
ডেবিট কার্ড হল একটি প্লাস্টিকের তৈরি পেমেন্ট কার্ড। যার সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক রয়েছে। এই কার্ডটি এ টি এম মেশিন থেকে টাকা জমা,তোলা এবং অনলাইন লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে ব্যাঙ্ক সকলকে ডেবিট কার্ড দিয়ে থাকেন। ডেবিট কার্ড তিন ধরনের হয় ১) Visa ২) MasterCard ৩) RuPay । 

১) Visa ও ২) MasterCard
Visa, MasterCard  দুটি ভারতের বাইরের কোম্পানির এবং এই কার্ড দুটি ভারতের বাইরে লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এই কার্ড দুটির ক্ষেত্রে ইস্যু এবং লেনদেনের মূল্য অনেক বেশি।

৩) RuPay
Rupay কার্ডটি ভারতের কোম্পানির হওয়ার জন্য ইস্যু এবং লেনদেনের মূল্য অনেক কম দিতে হয়। এই কার্ডটি ভারতের বাইরের ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ Rupay কার্ড পাওয়া যায়, যেগুলো ভারতের বাইরে ব্যবহার করতে পারেন।

Online Transaction

ডেবিট কার্ডের মধ্যে থাকা বিভিন্ন তথ্য:

i) ডেবিট কার্ডের সামনের দিকের তথ্য গুলি হল-


উপরের ছবিতে নম্বর অনুসারে তথ্য গুলো দেওয়া হল-
১) ব্যাঙ্কের লোগো(Bank Logo)
২) ই এম ভি চিপ (EMV chip), এই চিপটি থাকতেও পারে আবার নাও পারে। এটি ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে।
৩) হলোগ্রাম (Hologram),  অনেক কার্ডের ক্ষেত্রে এটি পেছনে থাকে।
৪) কার্ড নম্বর (Card Number),১৬  সংখ্যার হয়, শেষের চারটি সংখ্যা একক হয়।
৫) কার্ড কোম্পানির লোগো ( Card brand logo)।
৬) কার্ডের বৈধতা (Expiration date)।
৭) কার্ডধারীর নাম (Cardholder's name)।

ii) ডেবিট কার্ডের পেছনের দিকের তথ্য গুলি হল-

Debit Card

উপরের ছবিতে দেওয়া নম্বর অনুসারে তথ্য গুলো দেওয়া হল-
১) চুম্বকের পটি ( Magnetic stripe)
২) স্বাক্ষর (Signature)।
৩) সি ভি সি নম্বর ( CVC Number  - Card Verification Code ) , এটি কার্ডের সিকিউরিটি কোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ডেবিট কার্ডের সিকিউরিটি কোড হিসেবে আরও চারটি গোপন নম্বর দেওয়া হয়। এই কোড নম্বর  এ টি এম থেকে টাকা লেনদেনের সময় ব্যবহার করা হয়।




কিছু সতর্কতা

১। এ টি এম থেকে টাকা লেনদেনের জন্য গোপন চারটি নম্বর লাগে এবং এই গোপন নম্বর কখনো কোনো ব্যক্তিকে বলবেন না।

২। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে   Card no , CVC no,  Expiration date, Cardholder's name, OTP or PIN code প্রয়োজন হয়। OTP ( One Time Password ) হল এক মুহুর্তের জন্য গোপন নম্বর। এটি অনলাইন লেনদেনের সময় আপনার ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত রাখা মোবাইল নাম্বারে আসে। এই কোডটির বৈধতা কিছু সময়ের জন্যই থাকে। এই কোডটি কখনো কোনো অজানা ব্যাক্তিকে বলবেন না।

৩। অনেক অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনার গোপন চারটি নম্বরের সাহায্যে হয়ে যায় কিন্তু আপনার মোবাইল নাম্বারে কোনো কোড আসবে না। তাই গোপন নম্বর শেয়ার করবেন না।

৪। বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যাঙ্কের নাম অথবা বিভিন্ন কোম্পানির নামে ফোন করে আপনার কাছ থেকে কার্ডের বিভিন্ন তথ্য নেবে এবং এরপর আপনার গোপন নম্বর অথবা আপনার মোবাইল ফোনে আসা OTP নম্বর জিজ্ঞাসা করে আপনার ব্যাঙ্কের টাকা চুরি করে নিতে পারে। গ্রামের অনেকেই এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাই গ্রামে এমন চুরির ঘটনা বেশি ঘটে। তাই  আপনার কার্ডের তথ্য অজানা ব্যাক্তিকে বলবেন না, এমনকি ব্যাঙ্ক এতো কিছু তথ্য আপনার কাছে জানতে চাই না। 
নিজে সতর্ক থাকুন এবং সকলকে সতর্ক করুণ।

Thursday, October 11, 2018

,

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই মনসামাতার মন্দিরে প্রস্তুত করা হয় প্রতিমা


এই বছর সীতাপুর ও নবীনমানুয়া গ্রামে মনসা পূজো শুরু হবে ৩০শে আশ্বিন ১৪২৫ ( ইং- ১৭ই অক্টোবর ২০১৮ ) বুধবার থেকে। কিন্তু প্রতিমা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যায় ৮ই অক্টোবর। গত কয়েক বছরের কথা আলোচনা করলে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করা হত পূজোর দিন সকালে এবং মনসা পূজোর ঘট ডুবনো হয় রাত্রিতে।

Manasa Idol at Sitapur


এই বছর প্রতিমা নির্মাণের কাজ তারাতারি শেষ করা হয়েছে কারণ দূর্গাপূজো মনসা পূজোর দুই দিন আগে থেকেই শুরু হবে। দূর্গাপূজো শুরু হবে ২৮শে আশ্বিন ১৪২৫ ( ইং- ১৫ই অক্টোবর ২০১৮ ) সোমবার থেকে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ পূজা দুর্গা পূজা, তাই চারাদিকে এই পূজো হয়ে থাকে। এই বছর প্রতিমা নির্মাণকারী শিল্পীদের কাছে একটা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে। তাই শিল্পীরা আগে থেকেই সম্পূর্ণ করেছে মনসা প্রতিমা।

Manasa Idol at Nabin Manua


তবে মন্দিরের মধ্যে প্রতিমা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রতিমার মূর্তি উন্মোচিত হওয়ার পর ভক্তরা প্রতিমা দেখতে পাবেন। সীতাপুর মনসাতলায় নির্মাণের কাজ শেষ হলেও নবীনমানুয়া মনসাতলায় এখনো নির্মাণের কাজ চলছে। তবে দুর্গা পূজোর পূর্বেই সম্পূর্ণরূপে মনসামাতা মন্দিরে প্রবেশ করবেন এবং পূজোর দিন থেকেই ভক্তরা প্রতিমা দেখতে পাবেন।

Saturday, October 6, 2018

,
চারিদিকে পূজো পূজো আমেজ। মাঠের ধারে কাশ ফুলের দোলা, শরতের মেঘের খেলা জানিয়ে দিচ্ছে আসছে পূজো। আর সীতাপুরে এই বছরের পূজো মানে দূর্গাপূজা ও মনসা পূজো। অর্থাৎ এই বছর দুর্গাপূজা ও মনসাপূজা একই সঙ্গে হতে চলেছে। মহাষ্টমীর সন্ধ্যায় শুরু হবে মনসা পূজা। আর এই পূজো মানে অঞ্জলী, ঘুরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া আর অনুষ্ঠান। বর্তমানে গ্রামের পূজোতে নানান অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।  অনুষ্ঠানে ফ্লিম আর্টিস্ট, সিরিয়ালের আর্টিস্ট উপস্থিত না থাকলে দর্শকদের ভীড় লক্ষ্য করা যায় না।
Serial


দর্শকদের কথা মনে রেখে সীতাপুর মিলন সংঘের পরিচালনায় মনসা পূজো উপলক্ষে সীতাপুর মনসাতলায় ২রা কার্ত্তিক ১৪২৫ (ইং- ২০শে অক্টোবর ২০১৮ ) শনিবার এক বিচিত্রানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে হাসির রাজা উত্তম দাস এবং স্টার জলসার খোকাবাবু সিরিয়ালের মিস তরী। একই তারিখে নেতাজী তরুণ সংঘ গ্রামবাসীবৃন্দের পরিচালনায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীতারাম চকের ময়দানে এক বিচিত্রানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে জি বাংলা সিরিয়ালের সেরা নায়িকা জয়ী এবং স্টার জলসা খ্যাত ভজ গোবিন্দ। সীতাপুর মনসাতালায় অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত্রি ১০ ঘটিকায় কিন্তু সীতারাম চকে অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৮টায়।

সীতাপুর মনসাতলা ও সীতারাম চকের মধ্যে ২.৫ কিমি দূরত্ব হলেও  একই তারিখে অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য দর্শকদের ভীড়ের তারতম্য লক্ষ্য করা যাবে। উভয় স্থানেই দর্শকদের ভীড় লক্ষ্য করা যাতে পারে কারণ ঐ তারিখে অনেক স্থানেই দুর্গা পূজা শেষ হয়ে যাবে। দশমীর পরের দিন এই অনুষ্ঠানের জন্য দুই স্থানে দর্শকদের ভীড় হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

Sunday, September 30, 2018

,

স্বাস্থ্যই সম্পদ 

লিপিকা দত্ত (বর্মা)



'স্বাস্থ‍্যই সম্পদ' - এই প্রবাদ বাক‍্যটি আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষার্থে আমরা ততটা আগ্রহী নই। প্রাত‍্যহিক যৌগিক ক্রিয়াদির মাধ্যমে আমরা সহজেই এই সম্পদ রক্ষা করতে পারি। সাতটি প্রাণায়াম, সাতটি সুখায়াম এবং সাতটি আসনের মাধ্যমে আমরা সুস্থ নীরোগ দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারি।

Health Tips



প্রতিদিন ভোরে উঠে মুখভর্তি জল নিয়ে চোখে ১৫-২০ বার পরিস্কার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিতে হবে। তারপর খালিপেটে লবন-লেবু দিয়ে কয়েক গ্লাস হালকা গরম জল খেতে হবে। এরপর প্রাতঃকৃত‍্যাদি শেষ করে কোনূ খোলা জায়গায় চাদর বিছিয়ে নিম্নলিখিত প্রাণায়াম, সুখায়ম এবং আসন একাদিক্রমে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রথমে পদ্মাসনে বা যেভাবে পা ভাঁজ করে স্বাভাবিকভাবে বসি (বাবু হয়ে বসা ) সেভাবে বসে হাত দুটো দুই হাঁটুর উপর রেখে (তালুর উল্টো দিকটা হাঁটুতে ঠেকবে) বুড়ো আঙুল দিয়ে তর্জনী ধরে বাকি আঙুলগুলো সোজা রেখে প্রাণায়াম শুরু করতে হবে।

প্রথম- ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম : উপরোক্ত আসনে বসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে, চোখ বন্ধ করে, মুখ বন্ধ করে, শুধু নাক দিয়ে ধীরে ধীরে জোরে শ্বাস নিতে হবে আবার নাক দিয়েই ছাড়তে হবে। যতটা সময় ধরে শ্বাস গ্রহণ করা হবে তত সময় ধরেই শ্বাস ছাড়তে হবে। যত দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করা হবে ততই ভালো হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে শ্বাস নেওয়ার সময় যেন ছাতি কিছুটা স্ফীত হয়। এটা ১০মিঃ করতে হবে।

দ্বিতীয়- কপালভাতি প্রাণায়াম : একইভাবে বসে প্রথমে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে, নাক দিয়ে, নাক দিয়েই অনবরত ফোঁ, ফোঁ করে শ্বাস ছাড়তে হবে। মুখ বন্ধ থাকবে। শ্বাস নিতে হবে না। কেবলমাত্র শ্বাস ছাড়ার দিকেই নজর রাখতে হবে। শ্বাস এমনিই নেওয়া হয়ে যাবে। এটা করতে করতে হবে সেকেন্ডে একবার করে অন্ততঃ ১০মিনিট। হার্টের রুগীরা মিনিটে চল্লিশবার। প্রথম প্রথম একটানা করা যাবে না। অল্প সময় ধরে করতে হবে। আর মাঝে কয়েক সেকেন্ড করে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে হবে। তারপর আবার কপালভাতি করে যেতে হবে। এই প্রাণায়াম করার সময় কাঁধ ঝাঁকানো চলবে না, ঘাঢ় সোজা থাকবে। কাঁধে, হাতে কোনো চাপ না পড়ে। স্বাভাবিকভাবে করতে হবে। শারীরিক অসুবিধের সময় এই প্রাণায়াম করা যাবে না।

তৃতীয়- বাহ‍্য-প্রাণায়ম :  উপরোক্ত আসনে বসে নাক দিয়ে পূর্ণ শ্বাস নিয়ে তারপর সম্পূর্ণ শ্বাস দেহের বাইরে ছেড়ে 'ত্রিবন্ধ' করতে হবে। অর্থাৎ শ্বাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মলদ্বার উপরের দিকে খিঁচতে হবে,  পেট ভিতরে টানতে হবে, থুতনি বুকে ঠেকাতে হবে। এই তিনটি কাজ একসঙ্গে করে দমবন্ধ অবস্থায় যতক্ষণ সম্ভব থাকতে হবে। শ্বাস নিতে নিতে আগের অবস্থায় আসতে হবে। এটা অন্ততঃ পাঁচবার করতে হবে।
এই প্রাণায়াম চৌদ্দ বছরের কম বয়সীরা করবে না। আর শরীর অসুস্থ থাকলেও করা যাবে না।

চতুর্থ - অনুলোম বিলোম :  আগের মতো আসনে বসে বাঁ হাতে হাঁটুর উপর রেখে ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাক চেপে বাঁ নাক দিয়ে শ্বাস নিতে হবে। তারপর ডান হাতের মধ্যমা- অনামিকা দিয়ে বাঁ নাক চেপে ডান নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে। শ্বাস নেওয়া হলে ডান নাক চেপে বাঁ নাক দিয়ে ছাড়তে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বাঁ নাক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ করতে হবে। ডান হাতের কনুই কাঁধ বরাবর থাকবে। নাকের কাছে হাতের তালু যেন আড়াল না করে। এভাবে শ্বাস নেওয়া- ছাড়া দীর্ঘায়িত করে একটানা ১০ মিনিট করতে হবে। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় কোনো শক্তি প্রয়োগ চলবে না। স্বাভাবিকভাবে করতে হবে।

পঞ্চম- ভ্রামরি প্রাণায়াম : পূর্বের মতো আসনে বসে, চোখ বন্ধ করে, শিরদাঁড়া সোজা রেখে দুই হাতের বুড়ো আঙুল দুই কানের ভিতর চেপে রাখতে হবে। দুই হাতের তর্জনী কপাল স্পর্শ করবে আর বাকি তিনটে আঙ্গুল চোখের উপর আলতো করে স্পর্শ করে থাকবে। এই অবস্থায় মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেই 'ওঁ' উচ্চারণ করতে হবে। যতটা সম্ভব দীর্ঘায়িত শ্বাস নিতে হবে। দাঁতের পাটি পরস্পর চেপে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অন্ততঃ পাঁচবার এই প্রক্রিয়া করতে হবে।

ষষ্ঠ- উদগীথ প্রাণায়াম : একইভাবে সোজা হয়ে বসে হাঁটুর উপর দুই হাত রেখে চোখ ও মুখ বন্ধ করে নাক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে 'ওঁম' উচ্চারণ করতে করতে শ্বাস ছাড়তে হবে। ধীরগতিতে শ্বাস গ্রহণ ও শ্বাস ত্যাগ করতে হবে। কমপক্ষে পাঁচবার করতে হবে।

সপ্তম - উজ্জয়ী : একই আসনে বসে , মুখ বন্ধ রেখে, গলাটা ভেতরে চেপে ( অর্থাৎ শ্বাসটা গলার মধ‍্য দিয়ে যাবে না) শুধু নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে ভেতরে খানিকক্ষণ রেখে ডান নাক চেপে বাঁ নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে ধীরে ধীরে। কমপক্ষে পাঁচবার করতে হবে।
এই প্রাণায়াম না করতে পারলে ' সিংহাসন ' করা যাবে, যার উপকারিতা একই।

সিংহাসন : বজ্রাসনে বসে হাঁটু দুটো এক ফুট - এর মতো ফাঁকা করতে হবে। পিছনে পা দুটো এমনভাবে রাখতে হবে যাতে গোড়ালীতে চাপ না পড়ে আর পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দুটো পরস্পর স্পর্শ করে থাকে। এরপর দুটো হাত হাঁটু দুটোর ফাঁকে একটু ভেতরে দিকে মাটিতে রাখতে হবে। তালু মাটিতে থাকবে, আঙুলগুলো ভিতরের দিকে থাকবে। এই অবস্থায় নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে ঘাঢ় পিছনে দিকে হেলিয়ে মুখ হাঁ করে, জিভ বের করে 'অ‍্যা' 'অ‍্যা' করে শ্বাস ছাড়তে হবে। পাঁচ-সাত বার করতে হবে। 

Handstand


এই সাতটি প্রাণায়াম করার পর সাতটি সুখায়াম করতে হবে।

১ম সুখায়াম : সোজা হয়ে বসে পা দুটো সামনে সোজা করে ছড়িয়ে পায়ের আঙুলগুলো নাড়াতে হবে কিছুক্ষণ। হাতদুটো শরীরের দুইপাশ দিয়ে মাটিতে লাগানো থাকবে।

২য় সুখায়াম : উপরোক্তভাবে বসে পায়ের পাতা ঘোরানো। ডানদিক থেকে বাঁ দিক, বাঁ দিক থেকে ডান দিকে। অন্ততঃ পাঁচবার।

৩য় সুখায়াম : একইভাবে বসে দুই পা এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যাতে দুই পায়ের পাতা পরস্পর স্পর্শ করে। দুই হাত দিয়ে পায়ের পাতাজোড়া ধরে রাখতে হবে। এবার হাঁটু জোড়া প্রথমে ধীরে ধীরে তারপর দ্রুত আবার ধীরে ধীরে নাচতে হবে।

৪র্থ সুখায়াম : সোজা হয়ে বসে কাঁধ বরাবর সামনের দিকে হাত দুটো সোজা করে রাখতে হবে। তারপর হাতের তালু নিচের দিকে করে হাত মুঠো করা এবং খোলা। আঙুলগুলোতে একটু জোর প্রয়োগ করতে হবে।

৫ম সুখায়াম : বাবু হয়ে বসে হাত দুটো ভাঁজ করে দুই কাঁধের উপর দুই হাতের আঙুল স্পর্শ করতে হবে। এবার কনুই দুটো বুকের সামনে পরস্পর জোড়া লাগাতে হবে। এবার কনুই দুটো ঘোরাতে হবে ডান দিক থেকে বাঁ দিকে, বাঁ দিক থেকে ডান দিকে।

৬ষ্ঠ সুখায়াম : একইভাবে বসে হাত দুটো হাঁটুতে রেখে ঘাড় ঘোরাতে হবে। একবার ডান দিক থেকে বাঁ দিকে আবার বাঁ দিক থেকে ডান দিকে।

৭ম সুখায়াম : সোজা হয়ে বসে হাত দুটো মাথার উপর তুলতে হবে। তারপর হাত দুটো ভাঁজ করে মাথার পিছনে একে অন্যের কব্জি ধরবে। তারপর ধীরে ধীরে ডান হাত বাঁ হাতে আর বাঁ হাত ডান হাতে চাপ দেবে ধীরে ধীরে। শরীরের দুই পাশে টান লাগবে।
এছাড়াও অনেক আছে। তার মধ্যে চোখের জন্য একটা দিচ্ছি।

৮ম সুখায়াম : সোজা হয়ে বসে চোখের তারা একবার ডান দিক থেকে বাঁ দিকে ঘোরাতে হবে। তারপর গোল করে ঘোরাতে হবে। আর একবার উপর - নীচ তাকাতে হবে। সবগুলোই অনেকবার করতে হবে।

Handstand


এই সুখায়ামগুলোর পর সাতটা আসন করতে হবে। তবেই আমরা আকাঙিক্ষত ফল পাবো।

(১) শলভাসন, (২) ভূজঙ্গাসন, (৩)উত্থান পদাসন, (৪) সর্বঙ্গাসন, (৫) পবন মুক্তাসন, (৬) ত্রিকোণাসন এবং  (৭) উষ্ট্রাসন।
এছাড়াও করা যায় - হলাসন, গোমুখাসন, কুর্মাসন, অর্ধমৎসেন্দ্রাসন, মৎস‍্যাসন, সুপ্তবজ্রাসন, চক্রাসন, যোগমুদ্রা। 
আসনগুলো এমনভাবে করতে হবে যেন প্রথমে দাঁড়িয়ে, তারপর বসে, শেষে শুয়ে করা যায়। প্রতিটি আসান অন্ততঃ তিনবার করতে হবে। সুখায়ামগুলো ৫-৭ বার।

শারীরিক অসুবিধের সময় সবই বন্ধ রাখতে হবে।
বিঃদ্রঃ - এইসব প্রাণায়াম, আসন খালিপেটে করতে হবে। সন্ধ‍্যেবেলা করলে তার ৪-৫ ঘন্টা আগে খাওয়া শেষ করতে হবে।


- সম্পূর্ণ তথ্য নবীনমানুয়া ঈশ্বরচন্দ্র হাই স্কুলের ২০০৬ সালে প্রকাশিত দীপশিখা থেকে নাওয়া হয়েছে।

Featured Post

শ্রী শ্রী সর্বজনীন শ্মশানকালী পূজা ও বার্ষিক অনুষ্ঠান ২০১৯ ** নবীনমানুয়া( জোড়া সাঁকো )

শ্রী শ্রী সর্বজনীন শ্মশানকালী পূজা ও বার্ষিক অনুষ্ঠান ২০১৯ পরিচালনায়ঃ নবীমমানুয়া ফাইভ স্টার ক্লাব। স্থাপিতঃ ১৯৯৮ রেজিঃ নং- SL/...